—মহি মুহাম্মদ— লাইনে নতুন একটি মেয়ে এসেছে। চোখ টানে। ডবকা-ডুবকা। ঢলোঢলো ভাব। অনেকের নজর পড়েছে মেয়েটার ওপর। ওর ভাবসাবও ভালো নয়। গত রাতে সাদেক মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। লাইনটির নাম হরিশ্চন্দ্র লাইন। এর শেষ মাথায় কলতলা। ছোট একটি বারোয়ারি টয়লেট। পানির একটা ট্যাপ। পাশে একটা হাউস। পানি এলে সেখানে জমা হয়। ওখান থেকে মগ কেটে পানি …

Continue reading শেফালি

—অর্ণব রায়— ম্যাটাডর থেকে মাটিতে পা দিতেই জায়গাটা যেন গাছগাছালি, পুকুর, পাখির ডাক, ঝিরঝিরে বাতাস – সব নিয়ে এক পলকে একেবারে দশ হাতে আপন করে নিল। দুটো লম্বা লম্বা শ্বাস ফেললাম দাঁড়িয়ে। বেশ ছড়ানো-ছিটানো পাড়া। বা এখনো পাড়া হয়ে ওঠেনি সেভাবে। দুপাশে বেশকিছু কিনে রাখা প্লট। মাঝখান দিয়ে যে-রাস্তা ধরে আমরা এলাম, সেটা শেষ হচ্ছে …

Continue reading নতুন বাড়ি

—কানাই কুন্ডু— একই টেবল। একই চেয়ার। টানা করিডোর পেরিয়ে ছোট সেই কাচের ঘর। একটা জানালা। একই কর্মধারা। পরিবর্তন কেবল খান-তিনেক প্রমোশন। এবং পাখার বদলে দেয়ালে লটকানো বাতানুকূল বাক্স। এই চক্রাবর্তে পঁয়ত্রিশটা দীর্ঘ বছর ছিল নিয়ন্ত্রিত। এবং আশ্চর্য, এই বৃত্তটাই পরিপূর্ণ। বাকি সব অর্ধবৃত্ত বা কাস্তের ফালি। এর মাঝে বউ-ছেলেমেয়ে। বাবা-মা এবং বউ মলির চলে যাওয়া। …

Continue reading প্রভাতফেরি

প্রাচীন ভারতে নারী জীবন সংসার তথা বিবাহ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। নারীর শৈশব-যৌবন-বার্ধক্য যথাক্রমে পিতা-স্বামী-পুত্রের দ্বারাই নির্ধারিত থাকতো। এর ফলে পুরুষ অধীনতা নারীর জন্য হয়ে পড়ে অপরিহার্য। হিন্দুধর্মের থেকে অপেক্ষাকৃত আপাতদৃষ্টিতে উত্তম ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধধর্মের আগমন ঘটে এই ভারতে। হিন্দুধর্মের জাতিভেদ থেকে শুরু করে ঈশ্বরের প্রচলিত আরাধনার মতো অনেক কিছুই এখানে অনুপস্থিত ছিল বলে একে আপাতদৃষ্টিতে …

Continue reading বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্রঃ নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত (পর্ব – ০১)

—ইসমত চুঘতাই অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী— যেদিন মির্যার নতুন কাজের মেয়েটি ধীরগতিতে তার বাড়িতে ঢুকল, প্রতিবেশীদের মধ্যে সাড়া পড়ে গেল। যে-সুইপার বরাবর কাজ ফাঁকি দিতে অভ্যস্ত, সে রয়ে গেল এবং গায়ের শক্তি খাটিয়ে ঘষে-ঘষে মেঝেটা পরিষ্কার করল। যে-গোয়ালা দুধে ভেজাল দেওয়ার জন্য কুখ্যাত, সেও নিয়ে এলো মাখন-ভাসা দুধ। কে তার নাম দিয়েছে লাজো – লাজুক …

Continue reading গৃহবধূ

—মাহফুজ পারভেজ— কেউ কোনোদিন নিশ্চয় খুঁজবে – বলবে ‘ভালো আছো তো?’ আমি তখন একটি মায়াবী নদীর ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজের কোনো কথাই বলতে পারবো না; জানতে চাইবো তোমার ঠিকানা – ফিরে যাবো পুরনো সিন্দুকে মরিচাবিক্ষত নীল ছুরির চুম্বনে খুঁজবো দিগন্ত মাস্ত্তলে তোমার স্পর্শ দেখবো সারাটা জীবন উপুড় হয়েছে তোমার স্মৃতিতে : কেউ কোনোদিন নিশ্চয় খুঁজবে – …

Continue reading ভালো আছো তো

প্রবাসে আমার প্রধান এবং একমাত্র কাজ হচ্ছে সারাদিন ফেসবুকে বসে থাকা। বুধবার হোম পেইজে দেখি সাভার নিয়ে রাজ্যের মানুষের স্ট্যাটাস! ব্যাপার কী!! যত পড়ি আঁতকে উঠি। শেষে না পেরে মা-কে ফোন দিলাম। অপর প্রান্ত থেকে যা শুনলাম তাতে শিউরে উঠলাম! যত নিউজ আসছে, যত খবর পড়ছি কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে যাচ্ছে। ভিতর কুঁচকে কান্না আসে। যখন …

Continue reading হাজার হাজার মাইল দূরের ছোট্ট দেশটি

—ইমদাদুল হক মিলন— এইটুকু ভুলের জন্য এত বড় মাসুল দিতে হবে কল্পনাও করেননি সাদেক সাহেব। তিনি কাজ করেন একটা পাবলিশিং হাউসে। নাম ‘ছাত্রবন্ধু প্রকাশন’। মূলত নোট গাইড প্রকাশ করে। এই লাইনে দেশের এক নম্বর প্রকাশনা। মালিকের নাম মশিউর রহমান। এখনো পঞ্চাশ হয়নি বয়স। তুখোড় তরুণ। ষোলো বছর আগে আমেরিকা থেকে পড়াশোনা শেষ করে এলেন। বিবিএ, …

Continue reading দেবশিশু

—রাহমান ওয়াহিদ— কারো কারো চোখে প্রজাপতি বসলে কারো চোখ থেকে পিঁপড়ের বিষ উপচে পড়ে – যেন দহনে কালো হোক প্রজাপতির পেলব ডানা। আমার পাঁজরের খোলেও এক আদিম জিঘাংসা কার যেন বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে আর ক্ষরিত রক্ত ঝরে জমাট বাঁধে আমারই হৃৎপিন্ডে। ক্ষুধা নিবৃত্তিতেও কার যেন মাংসাশি দাঁত হলকুম কামড়ে ধরে, যেন গিলতে না পারি হেমলকও …

Continue reading মৃত নক্ষত্রের শহরে

—মালেকা পারভীন— বেডরুমের খাটের এক কোনায় বসে আছে সালমা। মুখটা কাঠিন্যের মুখোশে আটকে ফেলেছে সে। এতে করে তার অসচেতন অনিচ্ছায় যা ঘটেছে, তা হলো তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যের বলতে গেলে পুরোটাই ঢাকা পড়ে গেছে। যদি সে এখন আয়নায় তার আচমকা বদলে যাওয়া মুখের অাঁকাবাঁকা রেখাচিত্র দেখতে পেত, ঠিকঠিক সে নিজেই লজ্জা পেয়ে কাউকে কিছু বুঝে ওঠার …

Continue reading মুখোমুখি