প্রশ্নপত্র ফাঁস করে জাতিকে পঙ্গুত্বের পথে ঠেলে দেয়া হলেও, বাস্ত্মবতা হলো কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না এ অনৈতিক প্রবণতা।  যেদিনই পরীক্ষা হচ্ছে, সেদিনই পরীক্ষা শুরম্নর আগে ফাঁস হচ্ছে প্রশ্নপত্র।। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সব মহলে উদ্বেগের অন্ত্ম নেই। প্রাইভেট শিক্ষক ফেসবুক থেকে প্রশ্ন এনে দিয়েছে- ফরিদপুরের সদরপুরের দুই শিক্ষার্থীর কথায় যখন এমন বিষয় সামনে এসেছে, তখন প্রশ্ন ফাঁসের ভয়াবহতা এবং এর বিস্ত্মার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় থাকে না। লক্ষ্য করা গেছে, পিইসি-জেএসসি, এসএসসি-এইচএসসি, বিভিন্ন চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং প্রাথমিক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবেই ফাঁসের ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো একটি দুষ্কর্ম দীর্ঘদিন ধরে সংঘটিত হলেও বক্তৃতা-বিবৃতি ছাড়া কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে আর কোনো দায় আছে বলে মনে হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, রীতিমতো সিন্ডিকেট গঠন করে দুষ্কৃতকারীরা একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কথায় আছে- চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা, যদি না পড়ে ধরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ক্ষেত্রেই ধরা না পড়ার বন্দোবস্ত্মও পাকা করে রাখে চোরের দল। বস্তুত প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রকে ‘ম্যানেজ’ করে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে সম্পৃক্ত করে এসব অপকর্ম করা হয়। প্রশাসনযন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিয়ম মেনে চলতে ও আইন প্রতিপালনে আন্ত্মরিক না হয়, তাহলে কোনোদিনও দেশ থেকে এহেন নৈরাজ্য দূর হতে পারে না।

এরপরও চলতি এসএসসি ও সমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছেই। আগের চারটি পরীক্ষার মতো ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা এবার প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে বলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পর্যালোচনা কমিটির ভাষ্যে উঠে এসেছে। এবার পরীক্ষা শুরম্নর আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীরা খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত্ম হচ্ছে না- সংশিস্নষ্টরা এমন দাবি করেছেন।
সার্বিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বেকারত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যেমন তামাশা করা হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সব স্ত্মরের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্ত্মও যে পাকা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আর দ্বিমতের সুযোগ নেই। ফলে জাতি বিনাশী এসব কর্মকা- অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় কথা, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ‘হরিশংকরের গোয়াল’ বানিয়ে ফেলার বিষয়টি কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করব, দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আর একটি ঘটনাও ঘটবে না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী ও তৎপর হবে, এটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>