শিশুদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের প্রতি যথাযথ যত্ন নেয়া এবং সুষ্ঠু তদারকির প্রয়োজন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সঙ্গত কারণেই শিশুর বেড়ে ওঠা হতে হবে সঠিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। আর এর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ এবং সঠিক পরিচর্যার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদেরকেই। মনে রাখতে হবে, শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এর খেসারত দিতে হবে সবাইকেই_ যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বলছে, ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে! এদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশে তৈরি এই পর্নোগ্রাফিগুলোতে যাদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, তাদের বয়স ১৮-এর কম। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি, সংবাদপত্র বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞরা অভিমত উপস্থাপন করেন। সংস্থাটির শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক বলেছেন, ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ ভাগ শিশু নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখছে। তারা সুস্থ যৌন শিক্ষার বিপরীতে একটি বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। আমরা বলতে চাই, এই বিষয়টি অবশ্যই আমলে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কেননা বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। একটি সুশিক্ষিত জাতি সৃষ্টি করতে হলে, সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে হবে, শিশুদের বেড়ে ওঠা হতে হবে নিরাপদ। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণপূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করার বিকল্প থাকতে পারে না।
যখন পরামর্শ হিসেবে এমন বিষয় উঠে এসেছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সম্পর্কিত ২০০ শব্দের ওপর সংরক্ষণ দেয়া আছে এবং কেউ ওই শব্দগুলো লিখে সার্চ দিলে সার্ভারে নোটিফিকেশন যায়, আর অনুমোদন ছাড়া ওই সব সাইটে প্রবেশ করাও যায় না; বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। আমরা মনে করি, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হওয়া এবং সুস্থ মানসিকতা সৃষ্টিতে শিক্ষকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণাটি বলছে, চারটি পদ্ধতিতে অশ্লীল ভিডিও তৈরি হচ্ছে। আমরা মনে করি এই পদ্ধতিগুলো এবং দেশের যারা পর্নোগ্রাফি কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত তাদেরও শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা আমলেও নেয়া প্রয়োজন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া সিম নিবন্ধন করা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ ১৮ বছরের নিচে মুঠোফোন ব্যবহার করতে হলে শিশুকে অবশ্যই অভিভাবকের নামে নিবন্ধন করা সিমই ব্যবহার করতে হবে। ফলে অভিভাবকরা শিশুদের দামি মুঠোফোন, ট্যাবে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছেন, কিন্তু তারা কী কাজে এগুলো ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে খোঁজখবর করছেন না। এই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে, শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি ফলপ্রসূ উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং এর সুফল পাওয়া যাবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
সর্বোপরি আমাদের ভাষ্য_ জরিপকৃত তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর স্কুলগামী শিশুদের এই চিত্র অত্যন্ত ভয়ানক বাস্তবতাকেই নির্দেশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর দিক এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রয়োজনে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণাও চালাতে হবে, অভিভাবক মহলসহ সকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুদের জন্য নির্মিত হোক একটি সুন্দর আগামী। যা সকলের জন্যই হবে কল্যাণকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>