কবিতা

—সিরাজুল ইসলাম— চলতি পথের পাশেই ডুমুরের এক ডালে কবেকার কোন এক পাগল ফেলে রেখে জামাকাপড়ের বোঝা – নিতান্ত অবহেলায় চলে গেছে সে অজানার পথে, উলঙ্গ শরীরে সামান্য কদিনের স্মৃতিটুকু তার ঝুলে আছে ডুমুরের ডালে। কালের অতল গহবরে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যায় কতকিছু নতুনের আবাহনে জেগে ওঠে ঝরাগাছে আবারো নতুন কচিপাতা। আলোকবর্ষের কোনো এক চলমান নক্ষত্রের …

Continue reading শূন্য অতীত শুধু ঝুলে থাকে –

—শিহাব সরকার— এই নিয়ে রাত দুপুরে গ্লাস-ভাঙা কে কাকে মধ্যে রেখে না ঘুরে যায় কী না ঘোরে, ঘোরে সবকিছু, আমি ও তুমি মানুষ পতঙ্গ জন্তু জীব পাখি জলকণা, ঘোরে গ্রহতারা, কবে থেকে কেন ঘোরে আখড়ার উঠানে বসে বৃদ্ধ বাউল দিশাহারা। দেখি সূর্য ঘোরে, পৃথিবী নিশ্চল শনি মঙ্গল বুধ সমুদ্রে অস্ত যায় প্রতি সন্ধ্যায়, অথচ মূলকথা …

Continue reading দুটি কবিতা

—মোরশেদ শফিউল হাসান— সবারই বোধহয় কোনো নিভৃত গল্প থাকে ওই লোকটারও কি ছিল না? ও কি তার স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু বা সহকর্মীদের সে-গল্পের ভাগ দিয়ে গেছে? রাস্তা পেরুবার সময় লোকটা কি কিছু ভাবছিল কী নিয়ে ভাবছিল ও? কোনোদিন কেউ কি তা জানতে পারবে – পুলিশ, সাংবাদিক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বা কোনো মনোবিদ? মানুষ তার জমি, বাড়ি, …

Continue reading গল্প

—রফিক আজাদ— বৃক্ষ ছিল পাতারা সবুজ; পাখি ছিল ডানায় সুনীল; কণ্ঠ ছিল মোহন মদির; আকাশগঙ্গায় ভাসা সুর ছিল সুমন্দ্র মধুর! নদী ছিল জল অমলিন; নৌকা ছিল শব্দ ছলচ্ছল; গ্রাম ছিল সুখদ মুখর; পরিচ্ছন্ন দুই পাড়ে বারো মাস উৎসবের ধুম! কচুরিপানার ফুল মোহাম্মদ রফিক যেয়ো না নদীর পাড়ে তুমিও কচুরিপানা বনে যাবে, জলেতে তোমার ছায়া দেখে …

Continue reading ছিল

—নাসরীন নঈম— একটি টাটকা কবিতার জন্য আমার কলম কাঁপছিল বহুদিন এখনো কাঁপছে। আমি মনকে বোঝাচ্ছি থামো মন যখন নির্জলা অবসরে যাবো জীবন ঘষে ঘষে আগুন জ্বালাবো অবশ্যই টাঙ্গাইল শাড়ির পাড়ের মতো মিহি সুতার কবিতা আমার কলমে উঠবে। আমি সেই কবিতাটি নিয়ে একবার শামসুর রাহমান আল মাহমুদ নয়তো সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে চলে যাবো …

Continue reading ইচ্ছেপাখি

—সমীর ভট্টাচার্য— এখানে রবীন্দ্রনাথ সকাল সমুদ্র আনে ভোরের সামর্থ্য নিয়ে অক্ষরে অক্ষরে শৈশব আসে অশৌচান্তের কালবেলা ভেদ করে… উঠোনে পড়ে থাকে জল কাদা উৎসর্গিত রামধনু গল্পকথা অনুজ সংবাদ এখানে মাঠে মাঠে প্রসারিত ভালোবাসা খুলে যায় মুখ অাঁটা খাম থেকে সবুজ হৃদয়ে ফোটে আলোর গণিতমালা

Continue reading এখানে রবীন্দ্রনাথ

—মাহফুজ পারভেজ— কেউ কোনোদিন নিশ্চয় খুঁজবে – বলবে ‘ভালো আছো তো?’ আমি তখন একটি মায়াবী নদীর ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজের কোনো কথাই বলতে পারবো না; জানতে চাইবো তোমার ঠিকানা – ফিরে যাবো পুরনো সিন্দুকে মরিচাবিক্ষত নীল ছুরির চুম্বনে খুঁজবো দিগন্ত মাস্ত্তলে তোমার স্পর্শ দেখবো সারাটা জীবন উপুড় হয়েছে তোমার স্মৃতিতে : কেউ কোনোদিন নিশ্চয় খুঁজবে – …

Continue reading ভালো আছো তো

—রাহমান ওয়াহিদ— কারো কারো চোখে প্রজাপতি বসলে কারো চোখ থেকে পিঁপড়ের বিষ উপচে পড়ে – যেন দহনে কালো হোক প্রজাপতির পেলব ডানা। আমার পাঁজরের খোলেও এক আদিম জিঘাংসা কার যেন বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে আর ক্ষরিত রক্ত ঝরে জমাট বাঁধে আমারই হৃৎপিন্ডে। ক্ষুধা নিবৃত্তিতেও কার যেন মাংসাশি দাঁত হলকুম কামড়ে ধরে, যেন গিলতে না পারি হেমলকও …

Continue reading মৃত নক্ষত্রের শহরে